তৃণমূল ও বিজেপি র হাইভোল্টেজ জনসভা : ভোটের আবহাওয়ায় উত্তাপ বাড়ছে

24th December 2020 11:50 am বর্ধমান
তৃণমূল ও বিজেপি র হাইভোল্টেজ জনসভা : ভোটের আবহাওয়ায় উত্তাপ বাড়ছে


নিজস্ব সংবাদদাতা ( বর্ধমান ) : দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন । করোনা বিধিকে কার্যত শিকেয় তুলে প্রচারে ঝাঁঝ বাড়াচ্ছে শাসক বিরোধী উভয়পক্ষ ই । ক্ষমতা দখল এবং ক্ষমতা ধরে রাখার মরিয়া প্রচেষ্টায় প্রতিদিন একাধিক কর্মসূচী জেলায় জেলায় । শীতের আমেজে বছরের শেষ প্রান্তে এসে ভোটের উত্তাপে গা গরম করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থকরা । আজ পূর্ব বর্ধমানের দুই প্রান্তে দুই রাজনৈতিক দলের হাইভোল্টেজ জনসভা । পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে তৃণমূলের জনসভা যেমন রয়েছে তেমনি মন্তেশ্বর বিধানসভার সাতগাছিয়া তে রয়েছে বিজেপির জনসভা । শুভেন্দু অধিকারী জনসভা করে গিয়েছেন পূর্বস্থলীতে । যেখানে রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ উপস্থিত ছিলেন । তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন শুভেন্দু অধিকারী । তার জবাব দিতেই এবার বিজেপি থেকে তৃণমূল শিবিরে আসা বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এর স্ত্রী সুজাতা মন্ডলকে বক্তা হিসাবে হাজির করছে তৃণমূল । শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন সুজাতা । এবার প্রকাশ‍্য মঞ্চে তার বক্তব‍্য সামনে এনে বাজিমাত করতে তৎপর তৃণমূল । পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভার বিশ্বরম্ভা স্কুল ময়দানে তৃণমূলের জনসভা । সুজাতা মন্ডল ( খাঁ ) ছাড়াও থাকবেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ , রাজ‍্য মুখপাত্র কুনাল ঘোষ , দেবাংশু ভট্টাচার্য  সহ অনান‍্যরা । শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপির বিরুদ্ধে কতটা সুর চড়ান বক্তারা তার দিকেই নজর তৃণমূলের । 

পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর বিধানসভার সাতগাছিয়া তে রয়েছে বিজেপির জনসভা । প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মুকুল রায় । তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এই বিধানসভার বিধায়ক সৈকত পাঁজা । তৃণমূলের জেলা সভাপতি মন্ত্রী স্বপন দেবনাথকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দল ছাড়তে বাধ‍্য হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন সৈকত পাঁজা । এবার সেই বিধানসভা ক্ষেত্রেই বিজেপির হাইভোল্টেজ জনসভা । এই জনসভায় তৃণমূল শিবির থেকে বেশ কয়েকজন বিজেপিতে যোগদান করতে পারেন বলে সুত্রের খবর । যদিও তারা কারা সেটা এখন ই বোঝা যাচ্ছে না । আর কিছু সময় পরেই জনসভা শুরু হবে । এক ই সময়ে জেলার দুটি জায়গায় দুই রাজনৈতিক দলের হাইভোল্টেজ জনসভা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বাড়ছে ।





Others News

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) : প্রায় এক বছর আগে আবেদন করেও মেয়ের জাতিগত শংসাপত্র মেলেনি । আবেদনকারীদের জাতি শংসাপত্র দেওয়ার
ক্ষেত্রে দেরি করা যাবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টোটাই ঘটে চলেছে।প্রায় এক বছর আগে  চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে  আবেদন করেছিলেন মা।কিন্তু মেয়ে কে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসলেও জাতি  শংসাপত্র আজও না মেলায় কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির রাধাকান্তপুর নিবাসী ঊর্মিলা দাস।ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য ঊর্মিলাদেবী বৃহস্পতি বার মেমারি ১ ব্লক বিডিও অফিসে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন। শংসাপত্র পাবার জন্য বিডিও সাহেব কি ব্যবস্থা করেন সেদিকেই এখন তাকিয়ে ঊর্মিলাদেবী। 

বিডিওকে লিখিত আবেদনে ঊর্মিলাদেবী জানিয়েছেন ,তাঁর স্বামী মানিক দাস দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী ।বছর ১০ বয়সী তাঁদের একমাত্র কন্যা গ্রামের বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত কালে তাঁর ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য তিনি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী আবেদন করেছিলেন।  উর্মিলাদেবী বলেন ,তার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে  গেলেও তিনি তাঁর মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পান না।মেয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসায় গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে তিনি শংসাপত্রের বিষয়ে মেমারি ১ ব্লকের বিডিও অফিসে খোঁজ নিতে যান।জাতি শংসাপত্র বিষয়ের বায়িত্বে থাকা বিডিও অফিসের আধিকারিক তাঁকে অনলাইনে এই সংক্রান্ত একটি নথি বের করে আনতে বলেন । অনলাইনে সেই নথি বের করেনিয়ে তিনি ফের ওই আধিকারিকের কাছে যান । তা দেখার পর ওই আধিকারিক তাঁকে  ২০ দিন বাদে আসতে বলেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন , তিনি ২৫ দিন বাদে যাবার পর ওই আধিকারিক তাঁকে গোপগন্তার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে খোঁজ নেবার কথা বলেন । তিনি এরপর গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যান । নথি ঘেঁটে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে কোন ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি।ঊর্মিলাদেবী দাবী করেন ,এই ভাবে তিনি একবার বিডিও অফিস , আবার পঞ্চায়েত অফিসে দরবার করে চলেন । কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হয় না। মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য  গত ১৩ ডিসেম্বর ফের তিনি বিডিও অফিসে যান ।ওই দিনও বিডিও অফিসের জাতি শংসাপত্র বিষয়ক বিভাগের আধিকারিক তাঁকে একই ভাবে পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যেতে বলে দায় সারেন। পরদিন তিনি পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে গেলে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ফের জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে  ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি । কেন মেয়ের জাতি শংসাপত্র পাচ্ছেন না সেই বিষয়ে  না পঞ্চায়েত না ব্লক প্রশাসনের কর্তৃপক্ষ কেউই তাঁকে কিছু জানাতে পারেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন ,পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির আগে তার মেয়ে যাতে ওবিসি শংসাপত্র পেয়ে যায় তার ব্যবস্থা করার জন্য এদিন তিনি বিডিওর কাছে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন । মেমারী ১ ব্লকের বিডিও আলী মহম্মদ ওলি উল্লাহ এদিন বলেন ,“জাতি শংসাপত্র পাবার জন্য হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ছে । তবে ঊর্মিলাদেবীর কন্যা দ্রুত যাতে বিবিসি শংসাপত্র দ্রুথ পান সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে “। মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য্য বলেন,’মেমারি  বিধানসভা এলাকার আবেদনকারীরা দ্রুত যাতে জাতি শংসাপত্র পান সেই বিষয়ে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার কথা বলবো’।